গত ২১ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বিক্ষোভকারী বাংলাদেশিদের সাজা ঘোষণা করেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সাজাপ্রাপ্তদের পরিবার মুক্তির জন্য উপদেষ্টাদের কাছে আবেদন জানায়। এরপর গত ১২ আগস্ট আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে নিয়োগ দেয় সরকার।
এ বিষয়ে আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে সাহায্য করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দূতাবাস। এর আগে ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পক্ষ থেকে (ফ্লাড) জানানো হয়, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আইনি সহায়তা দিচ্ছে তারা।
ফ্লাডের আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম জানান, এই শ্রমিকদের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়ার সময় আমরা জানতে পারি, এসব শ্রমিকের কেউই ওই দেশের আইন সম্পর্কে জানতেন না।
এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আদালতে দণ্ডিত হওয়া ৫৭ জন বাংলাদেশিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ক্ষমা করেছেন। তিনি এটাকে সরকারের কূটনৈতিক সফলতা বলেও উল্লেখ করেন।
মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় আটক প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছাড়া পাওয়া কূটনৈতিক সফলতা। আমরা চাই প্রবাসীরা যেন কোনোভাবেই ভোগান্তিতে না পড়ে।’
১৯ জুলাই আরব আমিরাতে যা ঘটেছিল
গত ২৩ জুলাই বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, আসামিরা বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকটি রাস্তায় জড়ো হয়ে বড় আকারের মিছিল বের করে। সেদিন দেশটির পুলিশ তাদের সতর্ক করলেও বিক্ষোভকারীরা থামেনি। এ কারণে তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
যে শাস্তি হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের
গত ২১ জুলাই দেশটির আদালত বিক্ষোভকারী বাংলাদেশিদের সাজা ঘোষণা করেন। তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। কারাদণ্ড শেষে সবাইকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আদেশও দেন আদালত।
ক্ষমাপ্রাপ্তরা দেশে ফিরে যা বলেন
৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে শাহীন আহমেদ বলেন, আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছি। কোটা আন্দোলনে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যে গুলি চালিয়েছিল, মৌন মিছিল করে আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। আমরা জানতাম প্রতিবাদ করলে রাজতন্ত্র আইনে আমাদের শাস্তি পেতে হবে। সেই শাস্তিকে উপেক্ষা করেই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম।’
কারাদণ্ড পাওয়া আরেক প্রবাসী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকে ওই দেশের আইন সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলাম না। তবে যতটুকু অবগত ছিলাম, তাতে আমরা জানতাম আমাদের শাস্তি হবে। কিন্তু সেটাকে আমরা তোয়াক্কা করিনি। কারণ দেশের ঘটনাগুলো আমাদের মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিচ্ছিল। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যাই হোক, আমরা আন্দোলন করবো।’