শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশকে পুলিশি স্টেটে পরিণত করে। ২০০৯ সালে আইন সংশোধন করে পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। পুলিশকে প্রমোশন দিয়ে তাদের গ্রেড বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিয়ে পুলিশকে চতুমূর্খী সুযোগ সুবিধা তৈরী করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই কাজের ফলে পুলিশ নিজ দায়িত্বে সরকারের খাস গোলামে পরিণত হয়েছিল। গত ১৭ বছর বিরোধীদলের আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগ দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে মাঠে সক্রিয় থেকে বিরোধীদলের আন্দোলন ঠেকাতে না পারলেও আন্দোলন দমাতে বারবার পুলিশ লেলিয়ে দিত । আর পুলিশও দলীয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে এ কথাগুলি বলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নির্যাতিত তৃণমূলের নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আওয়ামী লীগ আমলে বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসন পুলিশি রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা অকুতোভয় শহীদ জিয়ার সৈনিক হোসেনপুর উপজেলা তথা গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র অন্যতম নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বারবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন। এমন কোন দিন রাত ছিল না যে তার বাড়িতে পুলিশ আসে নাই। একদিন রাতে যখন তার বাড়িতে পুলিশ আসে বাড়ির গেইট লক করা অবস্থায় দেখে গেইট ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে মামুনকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের উপর পুলিশ বিভিন্ন ধরনের টর্চার করে। বিএনপির কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের এমন কোন কর্মসূচি নেই যেখানে আবদুল্লাহ আল মামুন সম্মুখ সারিতে থেকে অংশগ্রহণ করে নাই।
স্থানীর গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় পড়ার সময় সেই কিশোর বয়স থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বেগম জিয়ার রাজনৈতিক চর্চাকে পুঁজি করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বিএনপি’র সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস ও মির্জা কখন সাহেবের একজন বিশ্বস্ত ব্যানগার্ড হয়ে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে নিজেকে যে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন তার জন্য বিগত ১৭ বছর নির্গম রাত কাটাতে হয়েছে। আওয়ামী পুলিশি নির্যাতনের কারণে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে গোবিন্দপুর ইউনিয়নে হাতে গোনাদুই একজন নেতাকর্মী একেদবার গ্রেপ্তার হলেও আব্দুল্লাহ আল মামুন বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। ডজন ডজন মামলা মোকাবেলা করতে উচ্চ আদালত থেকে কিশোরগঞ্জ জজকোর্ট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বছরের পর বছর হাজিরায় নাম লেখাতে হতো। ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার নির্লজ্জ পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বর্তমান সময়ও একাধিক মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে অতীতের তুলনায় আরো শক্তিশালী সংগঠনে রূপান্তরিত করার জন্য আব্দুল মামুন প্রতিটি নেতাকর্মীর সাথে নিরলসভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
গোবিন্দপুর ইউনিয়নবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক আলোচনা সভায় আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দূঃশ্বাসনের পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া সকল নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের মামলা থেকে অব্যাহতি পাবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়। তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে গোবিন্দপুর বিএনপি’র সকল নেতাকর্মী আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি ইনশাল্লাহ।