৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রধান উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল পর্যালোচনা করেন রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। উভয়পক্ষ অবকাঠামো, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৃহীত আলোচনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তরের বিষয়ে যৌথ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো চীন সফরের সময় আলোচিত পরিকল্পনাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন, যাতে গতি হারিয়ে না যায়। চীনা রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, এটি আমাদেরও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আমরা কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না, বরং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই।

বৈঠকে মোংলা ও আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনা, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং তার সঙ্গে ১০০ সদস্যের বিনিয়োগ প্রতিনিধি দলের আগমনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর প্রস্তুতি চলছে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে সেগুলো ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ১ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজ করার উদ্যোগও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধান উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন, যাতে তরুণ প্রজন্ম চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে পারে। তিনি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, চীনে পাট রপ্তানি, লোকোমোটিভ খাতে বিনিয়োগ এবং চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে লোকোমোটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

কৃষি বাণিজ্যের বিষয়ে বলা হয়, এই মৌসুমেই বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে এবং আগামী বছর কাঁঠাল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমি নিজেই রাষ্ট্রপতি শি’র কাছে এক ঝুড়ি তাজা আম পাঠাব।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিউর রহমান, বিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, বিশেষ সহকারী ফয়েজ তাইয়েব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top