রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
জিডি করা একটি ব্ল্যাংক চেক ব্যবহার করে ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার জালিয়াতির মামলা করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাবনার ঈশ্বরদীর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
শনিবার (১৭ মে ) ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তরিকুল দাবি করেন, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির অডিটের সময় বাজারে তাঁর কাছে কোম্পানির ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১০ টাকা পাওনা থাকলেও, কোম্পানির কাছে তাঁর ব্যক্তিগত পাওনা ছিল ৫ লাখ ১২ হাজার ১৫২ টাকা।
তিনি অভিযোগ করেন, ওইদিন সন্ধ্যায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল, পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন তুহিন, ভ্রাম্যমাণ বিভাগের মো. ওমর চিশতী ও হিসাবরক্ষক ইয়াসিন মাসুদ মিলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাঁর একটি ব্ল্যাংক চেকে (যার নম্বর SB 25/B2412009) স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পাশাপাশি একটি চুক্তিপত্রেও সই করানো হয়।
পরবর্তীতে অফিসে গেলে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, হাজিরা গ্রহণ করা হয়নি, বেতনও দেওয়া হয়নি। অন্য কোথাও চাকরি করতে চাইলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তরিকুলের। তিনি মানবেতর জীবন যাপন শুরু করেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে অফিসে প্রবেশ করতে না পেরে ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ২০১৬ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল উক্ত চেকটিতে ইচ্ছামতো ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা লিখে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন।
তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। তিনি জোরপূর্বক নেওয়া ব্ল্যাংক চেকটির বিষয়ে আগেই থানায় জিডি করেছিলেন এবং সেই জিডিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি বেকার, মানসিক ও আর্থিক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।”