নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণহত্যার বিচার আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার—এই মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, “বিচার শুরু হচ্ছে শিগগির। এই বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করার দাবি সমাজে ছিল। আট মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর তদন্তকারী ও প্রসিকিউশন অফিস পুনর্গঠন করা হয়। তদন্তকারী দল কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষ করেছে। একটি মামলার ফরমাল চার্জ গঠন করে রোববার তা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয় এবং সেটি আমলে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই মামলার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। প্রধান আসামি শেখ হাসিনার মামলার শুনানি খুব শিগগিরই শুরু হবে। ইনশাল্লাহ্, এই সরকারের আমলেই আমরা এ বিচারের রায় পেয়ে যাবো।”
প্রথম মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু
গত ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল এই মামলায় তদন্ত সংস্থা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়, যার ভিত্তিতে রোববার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গৃহীত হয়।
অভিযুক্তদের তালিকা
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী
- রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম ও মো. আখতারুল ইসলাম
- রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল
- শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন
- কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম
তাদের মধ্যে শেষের চারজন বর্তমানে কারাগারে, বাকিরা পলাতক।
নির্দেশদাতাদের মধ্যে শেখ হাসিনা
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার দেওয়া নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই বিচারিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, গণহত্যার বিচার কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো রকম রাজনৈতিক চাপ মেনে নেওয়া হবে না।