নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় থাকা সুব্রত বাইন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্যা মাসুদকে কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর সোনার বাংলা সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করে সেনাবাহিনী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযানটি পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল। তবে দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “আমরা গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে আটকের খবর পেয়েছি। তবে আমাদের কাছে কে, কখন, কোথা থেকে আটক করেছে তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। অভিযানে জেলা পুলিশ অংশ নেয়নি।”
সুব্রত বাইন ও মোল্যা মাসুদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগ্রহের মূল কারণ তাদের দীর্ঘ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ঢাকার অপরাধ জগতে সুব্রত বাইন, মোল্যা মাসুদ, তানভিরুল ইসলাম জয়, টিক্কা, টোকাই সাগর, সেলিম ও চঞ্চল মিলে ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’ নামে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী চক্র গঠন করে। এই গ্রুপ একাধিক খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যে ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে সুব্রত বাইন অন্যতম ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়েছিল।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের মঙ্গলবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলো সুব্রত বাইন।”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।