আদিব হাসান প্রান্ত, সিকৃবিপ্রতিনিধি:
সিলেট নগরীর প্রাণ কেন্দ্র বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার, দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহ মাজার। বাহির জেলা থেকে শহরে প্রবেশ করার মূল ফটক বলতে গেলে বন্দর বাজার। কিন্তু বিকাল হলেই শুরু হয় অবৈধ ভাবে রাস্তা দখলের প্রতিযোগীতা। ফুটপাত ছেড়ে বন্দর বাজারে প্রবেশ করার অর্ধ কিলোমিটার এরও বেশি রাস্তা দখল করে পসরা সাজিয়ে বসে পড়েন হকাররা।
এতে একদিকে যেমন যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও পথচারীদের চলাফেরাও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দর বাজারের প্রবেশ রাস্তা এবং বাহির রাস্তা দুইটি দুপুরের পর থেকেই রাস্তা দখলের প্রতিযোগীতায় নেমে পড়ে। হকার থেকে শুরু করে মধ্যম শ্রেণীর অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের স্থায়ী দোকার থেকে মালামাল নিয়ে রাস্তায় চলে চলে আসে।
অর্ধেকের বেশি রাস্তা দখলে চলে যায় । যার ফলে প্রবেশ মুখ বন্দর পয়েন্ট থেকে শুরু করে শিশুপার্ক পর্যন্ত যানযট সৃষ্টি হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ রাস্তা দখল করে রমরমা ব্যবসার ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পাঁচ মিনিটের রাস্তা আধা ঘণ্টা থেকে চল্লিশ মিনিটেও পার হওয়া যাচ্ছে না। নগরবাসী অভিযোগ করে আরও বলেন একদিকে যেমন চরম ভোগান্তি, চুরি – ছিনতাই বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও পথচারীদের চলাফেরাও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।
রকিব নামে এক পথচারী অভিযোগ করে বলেন একদিকে যেমন তীব্র গরম অন্যদিকে যানযট ছোট ছোট কাচামালের ব্যবসায়ীরা রাস্তা দখল করে নিয়ে যানযট সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের উদাসীন মনোভাব এর অর্ন্তভুক্ত বলে তিরি উল্লেখ করেন।
সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে রাস্তা দখলের ফলে যানযট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ভেতরে ক্রেতা যাচ্ছে না শাক সবজি কিনতে। এখানে ভেতরের থেকে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি বিক্রি করতে পারি।
তিনি আরও বলেন সত্যি বলতে জনগণের জন্য জনগণের ভোগান্তি। ক্রেতা ভেতরে অর্থাৎ লালদীঘির পাড়ের দিকে যদি কিনতে যায় তাহলে আমরা বাহিরে মালামাল নিয়ে আসব না। ক্রেতারাই এখানে মালামাল কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছে।
এবিষয়ে জানতে চাইছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দ্বায়িত্বরত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, হকার এবং ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী দ্বারা রাস্তা, ফুটপাত দখল করে যানযট সৃষ্টি করা সিলেট নগরীর জন্য একটা ক্রোনিক সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে এসমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে জনগণ।
তিনি বলেন হকাররা জনসমাগম বেশি এরকম জায়গায় পসরা সাজিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করতে চলে যায়। অভিযান চালনো হলে কিছু সময় ঠিক থাকে আবার চলে আসে। অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে স্থায়ী সমস্যা সমাধান করতে প্রশাসনের সব বিভাগের সাথে কথা বলে হকার মার্কেট এবং লালদীঘির পাড়কে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
রাস্তা থেকে জিনিস পত্র না কিনতে জনসাধারণকে অনুপ্রেরণীত করবেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এবিষয়ে দ্রুত আলোচনা করবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে