২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দখল-দূষণে দুমকির মুরাদিয়া নদী এখন মরা খাল

জাকির হোসেন হাওলাদার, দুমকী উপজেলা( পটুয়াখালী ) প্রতিনিধিঃ

দখল আর দূষণের কবলে এখন মৃত্যু প্রায় পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার এক সময়ের প্রবল খরশ্রতা মুরাদিয়া নদীসহ প্রায় দশটি শাখা খাল। উপজেলার প্রাণ মুরাদিয়া ইউনিয়নের নদী ও শাখা খালগুলো বাঁচিয়ে রাখতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লোহালিয়া নদী থেকে উৎপত্তি মুরাদিয়া নদীর। দক্ষিণ মুরাদিয়ার ভক্ত বাড়ি থেকে প্রবাহিত হয়ে, কলবাড়ি, গাবতলী, বোর্ড অফিস বাজার-আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কদমতলা বাজার হয়ে পায়রা নদীতে মিলিত হয়েছে। এই নদীর গাবতলী হয়ে ভারানি, দুমকির পীরতলা বাজারে পাশ দিয়ে আঙ্গারিয়া বন্দরের কাছে মিলিত হয়েছে একটি খাল।

নদী ও খালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে কয়েকটি বাণিজ্যিক বন্দর ও হাট বাজার। তাই এই নদীকে বলা হয় দুমকির প্রাণ। সূত্র জানায়, ৭০-৮০ ও ৯০ দশকে মালামাল বোঝাই নৌযান ঝালকাঠি ও বাকেরগঞ্জ হয়ে এই নদী দিয়ে সহজ পথে পটুয়াখালী ও গলাচিপা বন্দরে যাতায়াত করত। এই নদী দিয়ে উপজেলা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জেলেরা পায়রা নদীতে খোটজাল দিয়ে ইলিশ শিকারে যেত। কিন্তু সেই দিন আর নেই। নব্যতা সংকট ও দখলের কারণে নদীটি বন্ধ হয়ে গেছে। ময়লা আবর্জনা ও বাসাবাড়ি শৌচাগারের মলমূত্র নদীতে ও খালে ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। সরেজমিনে নদী ও খাল কেন্দ্রিক বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর দুই পাশের কয়েকশ’ একর খাস জমি প্রভাবশালীরা দখল করে গড়ে তুলেছেন কয়েকশ’ কাঁচা ও পাকা স্থাপনা। সাধারণ মানুষের দাবি প্রভাবশালীদের কাছ থেকে খাস জমির পাকা ও কাঁচা স্থাপনা উচ্ছেদ করে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী ও খালকে পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনতে হবে। দুমকি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এসএ খতিয়ান অনুযায়ী নদী ও খালের চরের খাস জমির পরিমাণ ৫শ’ একরের বেশি এর মধ্য থেকে কিছু জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বাকি খাস জমি প্রভাবশালী দখলবাজদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর ইজাজুল হক বলেন, দখল ও দুশনে এক সময়ের খরস্রতা মুরাদিয়া নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। যে সমস্ত প্রভাবশালী লোকেরা নদীর পাড়ের খাস জমি দখল করে অবৈধ কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদেরকে নোটিস দিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং গাবতলী থেকে উৎপত্তি দুমকির পীরতলা খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী ও খাল খনন করে দূষণমুক্ত করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top