২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কন্যা দানে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া নজির গোয়ালন্দে ক্ষুদ্রনৃতাত্ত্বিক পরিবারের অসহায় মেয়ের বিয়েতে ইউএনও-ওসি

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

একজন মেয়ের বিয়েতে কেবল আত্মীয় স্বজন নয়, পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। সেটিও আবার এক দরিদ্র ক্ষুদ্রনৃতাত্ত্বিক পরিবারের মেয়ের বিয়েতে। এমন মানবিক দৃশ্য গোয়ালন্দবাসীকে করেছে আপ্লুত, ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত সকলের হৃদয়।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম সরকার পাড়ার বাসিন্দা নারায়ন শীল নাড়ু তার মেয়ে সুমিত্রা শীলকে বিয়ে দিতে গিয়ে পড়েন চরম অর্থ সংকটে। সামর্থ্য না থাকায় বিয়ে ঠিক হলেও কন্যা দানের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না তিনি। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার সচেতন যুবসমাজ ও সংবাদকর্মীরা এগিয়ে আসেন সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে।

বিষয়টি গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম অবহিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাহিদুর রহমানকে। মানবিক এ প্রশাসক কোনো দ্বিধা না করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেন। শুধু তা-ই নয়, গত মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) রাত ৯টায় তিনি নিজেই উপস্থিত হন সেই ছোট্ট বাড়িতে, যেখানে বিয়ের আয়োজন চলছিল। তাঁর উপস্থিতি যেন হয়ে উঠেছিল এক অসহায় পরিবারের জন্য আশীর্বাদের ছায়া।

এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম কনের জন্য একটি শাড়ি উপহার দেন। উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, রাকিবুজ্জামান রাকিব, জেলা যুবদলের যুগ্ম সদস্য সচিব মুরাদ আল রেজা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, পৌর মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া দেলোয়ারসহ আরও অনেকে।
বিয়ের মুহূর্তটি ছিল এক অভাবনীয় আবেগের। ইউএনও নিজ হাতে কন্যাদানে সহযোগিতা করেন। এলাকাবাসী এ মানবিক দৃশ্য দেখে আবেগে কেঁদে ফেলেন। এক হতদরিদ্র পরিবার যেন ফিরে পায় সম্মানের সঙ্গে একটি বিয়ের স্মৃতি। অনেকেই বলেন, এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা আরও দৃঢ় করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। চিকিৎসা হোক কিংবা মেয়ের বিয়ে মানবিক জায়গা থেকে যতটুকু পারি, সহায়তা করি। আজ এক ক্ষুদ্রনৃতাত্ত্বিক পরিবারের মেয়ের বিয়েতে পাশে থাকতে পেরে আত্মতৃপ্তি অনুভব করছি।’

এই আয়োজনটি শুধু একটি বিয়ে নয়, এ ছিল ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। সমাজের শক্তির জায়গাগুলো যখন এমনভাবে এক হয়ে কাজ করে, তখনই গড়ে ওঠে মানবিক বাংলাদেশ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top