রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকার ঘোষিত ‘টি.আর’ (টেষ্ট রিলিফ) ও ‘কাবিখা’ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কাবিটা /টাকা প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে সফলভাবে। ইউএনও ও পিআইও’র প্রচেষ্টায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কালীগঞ্জ উপজেলা।
এদিকে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ রীতিমতো উপজেলাব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফলে কালীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং,সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নই এই সফলতার মূল চাবিকাঠি বলে ও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা কর্তা ব্যক্তিগন।

এইচ এম মাজহানুর রহমান
বুধবার (০৯ জুলাই) কালীগঞ্জ উপজেলার ২০২৪/২৫ অর্থ বছরে টি,আর,কাবিখা/কাবিটা আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্রীজ কালভার্ট,ইউড্রেন,রাস্তা সংস্কার,ঢেউটিন বিতরণ কার্যক্রম ঘুরে দেখা গেলো এ অর্থবছরে সকল কাজের সফল বাস্তব চিত্র, যা সত্যি প্রশংসার দাবিদার।
এই অভূতপূর্ব সফলতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলার নব-নিযুক্ত সৎ উদ্যামী ও যোগ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজহানুর ইসলাম। তাদের কঠোর পরিশ্রম,নিবিড় তদারকি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক নীতি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিশ্চিত করেছে সকল কাজের শতভাগ গুণগত মান ফলে সময়ানুবর্তিতার মধ্যে দিয়ে কাজের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘টি.আর’ ও ‘কাবিখা’ প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হযেছিল।টি আর কাবিখা চাল / গম বাবদ = ১৩৯. ৫৮৫৯ মেঃটঃ চাল = ১৩৯.৫৮৫৯ মেঃটঃ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ ব্যবহার করে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হয় নানা উন্নয়নমূলক কাজ—
🔸 গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা রাস্তার উন্নয়ন,🔸 কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ ও সংস্কার,🔸 বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়ন🔸 খাল-বিল খনন ও পরিষ্কার, ইউড্রেন প্যালাসাইটিং
প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা। পিআইও কার্যালয় থেকে নিয়মিত পরিদর্শন ও মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করে তা ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে প্রতিটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা হয়েছে বার বার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুষভান্ডার ইউনিয়নের এক নারী সদস্য বলেন, আগে অনেক অভিযোগ থাকত, এখন নেই। ইউএনও স্যার ও পি,আই মাজহানুর স্যারের কারণে কাজ হয়েছে সুন্দর ভাবে এতে আমরা খুশি।”দুর্নীতি নয়,উন্নয়নই মূল লক্ষ্য ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন ইউএনও ও পিআইও। কোন প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন কিংবা নিম্নমানের কাজ—এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং সবার অংশগ্রহণে প্রকল্প বাস্তবায়নে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন যা গোটা কালীগঞ্জ বাসীর নজড় কেড়েছে।
সরকারি অর্থ বরাদ্দে স্বচ্ছতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক নিষ্ঠার মেলবন্ধন যে কীভাবে একটি উপজেলার উন্নয়নকে গতিশীল করতে পারে, তার জলন্ত উদাহরণ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাস্তব চিত্রে ফুঁটে উঠেছে। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় এমন দৃষ্টান্তমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নই পারে নতুনদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কালীগঞ্জ বাসী।
কালীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ,এম মজহানুর ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনা হলে তিনি বলেন আমি প্রত্যেকটি প্রকল্পে গিয়েছি কাজের মান শতভাগ দেখে বিল দিয়েছি।
কেউ খারাপ কাজ করে বিল তুলে নেয়ার সুযোগ নেই।
আমাদের কালীগঞ্জে টি,আর কাবিটা,কাবিখা”র কাজের মান ভালো বলে জানান তিনি।
এ ব্যপারে কালীগঞ্জ উপজেলার সুযোগ্য,সৎ নিষ্ঠাবান নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানার সাথে আলোচনা হলে তিনি দৈনিক আমার বাংলাদেশ কে বলেন,“সরকারের দেওয়া প্রতিটি অনুদান যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছায়,এ,ডি,বি,টি,আর,কাবিখা,র আওতায় গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ উন্নয়নে যে সকল কাজ হয়েছে তা সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি ও আমার টিম ব্যক্তিগতভাবে সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো দুর্নীতিকে এক বিন্দুও প্রশ্রয় দেয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়ন—প্রতিটি ধাপে ছিল জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা। ফলে প্রতিটি কাজ দৃশ্যমান হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ এর উপকার ভোগ করতে পারছেন। এ উপজেলায় সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে যা আগে কখনও সম্ভব হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শফি মিয়া বলেন,এ বছরের মতো কাজ আগে কখনো দেখিনি। এতো সুন্দরভাবে কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে এতে আমরা এলাকাবাসী সত্যি অনেক আনন্দিত। গ্রামে রাস্তা হয়েছে,খাল খনন,ইউড্রেন,কাঁচা রাস্তা সংস্কার,ব্রীজ কালভাট হয়েছে আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।