২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দিশেহারা রাজবাড়ীর নদী পারের মানুষ আবার দেখা দিয়েছে পদ্মার ভাঙন

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করেই আবারও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে গোয়ালন্দ উপজেলার কাওয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকার কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি। শুধু জমি নয়, ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থানসহ বহু কাঁচা পাকা স্থাপনা। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া ও মুন্সিপাড়াবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সেখানে একটু পরপরই মাটির বড় বড় চাপ নদীতে ভেঙে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। আবার পাশেই পাট ও পটোলের ক্ষেত চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। অনেকে কাঁচাপাট কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৮৫ বছর বয়সী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মায় আগে চারবার গিলে খেয়েছে আমার বসতভিটা। অবশেষে কাওয়াজানি গ্রামে সরকারি রাস্তার পাশে কুড়েঘর তৈরি করে বসবাস করছি।’ শুধু মালেক শেখই নন, একই অবস্থা হারুন মণ্ডল, খলিলুর রহমান, হবিবুল্লাহসহ শত শত মানুষের।

এ সময় হারুন মণ্ডল বলেন, প্রতি বছরই পদ্মা ভাঙে। ভাঙনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিওব্যাগ ফেলে, সারা বছর আর কোনো খোঁজ থাকে না। অথচ যদি শুষ্ক মৌসুমে কিছু বস্তা ফেলা যেত, তবে বর্ষায় এসে আর ভাঙনে পড়তে হতো না। তিনি আরও বলেন, গত বছর আমার পাঁচ বিঘা ফসলি জমি নদীর পেটে গেছে। এ বছর শুক্রবার থেকে বৃহস্পতিবার এ কয় দিনে বাকি তিন বিঘা নদীর পেটে। এখন বাকি আছে ভিটেটুকু, তাও মনে হয় রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

খলিলুর রহমান বলেন, গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এ ভাঙন। নদীতে বিলীন হয়েছে পটোলক্ষেত ও পাটক্ষেত। পাট কাটার উপযোগী না হলেও বাধ্য হয়ে কেটে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এক সপ্তাহের এ ভাঙনে শত শত বিঘা জমি বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, পদ্মার ভাঙনের কারণে দেবগ্রাম ইউনিয়নটি ছোট হয়ে এসেছে। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, এখনই জোরালো পদক্ষেপ না নিলে হারাতে হবে শত শত বসতবাড়ি, মুন্সিপাড়া মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রিজ, কালভার্টসহ গ্রামীণ সড়ক।

ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের চিত্র দেখে দুই দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে জরুরি খাত থেকে আড়াই লাখ টাকা প্রদানের সুযোগ রয়েছে, প্রয়োজনে সেটি দিয়ে শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন, হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই শুরু হবে নদীশাসনের কাজ।

এদিকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা। এ সময় এনসিপির সদস্য মোঃ গাজী জাহিদ হাসান বলেন, রাজবাড়ী জেলার এনসিপি নেতারা ভাঙন এলাকা দেখে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও খালেদ সালাহউদ্দিনকে পাঠানো হয়েছে। তারা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top