মোহাঃ রকিব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে শেষ হয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। গত ২০ দিনে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৭০টি বাড়ি, সহ¯্রাধিক বিঘা ফসলি জমি, আমবাগান, বাঁশবাগান, একাধিক মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গোরস্তান। বর্তমানে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের না আছে খাবার, না আছে আশ্রয়।
ভাঙনের ভয়াল চিত্র
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঝালপাড়া, প-িতপাড়া, বাদশাহপাড়া ও আশপাশের গ্রামের বহু পরিবার বারবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুল খালেক জানান, গত তিন বছরে শুধু ঝালপাড়া গ্রামেই বিলীন হয়েছে প্রায় ৬০টি বাড়ি ও ১,০০০ বিঘা জমি।
প-িতপাড়ার তোহরুল ইসলাম জানান, “আমরা ১০টি পরিবার এখন নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে বাস করছি। ঘর যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।” তিনি আরো জানান, “এ গ্রামে গত চার বছরে বিলীন হয়েছে ৬০টি বাড়ি, ১৫০০ বিঘা জমি ও একটি জামে মসজিদ।”
বাদশাহপাড়ার বাবুল উদ্দিনের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সর্বস্ব হারানোর আর্তি, “চর হাসানপুরে ৩০ বিঘা জমি, আমবাগান, গরু-ছাগল ছিল। সবই নদী কেড়ে নিয়েছে। এবার চতুর্থবার ভাঙনের কবলে পড়েছি।”
৮০ বছর বয়সী সোহবার হোসেন বলেন, “পাঁচবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। এখন আর সহ্য করতে পারি না। পদ্মার মাঝেই ডুবে যেতে মন চায়।”
প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও প্রকল্পের আশ্বাস
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এখনও কোন জনপ্রতিনিধি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেননি। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, “পরিদর্শনে যাবো,” তবে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজাহার আলি জানান, “শিবগঞ্জে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি,” যা স্থানীয়দের বক্তব্যের সাথে স্পষ্ট বিরোধে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আলী কাউসার জানান, ১৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা একনেকে পাশ হলে পাকা ইউনিয়ন পর্যন্ত নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে।
বড় ধরনের ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ
সামগ্রিকভাবে স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি, ১৫ হাজার বাড়ি, ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, গোরস্তান ও হাট-বাজার নদীতে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি