খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় পরকীয়া প্রেম ও পূর্বশত্রুতার জেরে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে সেলিম (৪৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সেলিম উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঘোষেরহাওলা গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে। অটোরিকশা চালানো ও দিনমজুরের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সেলিমকে দাফন করা হয়।
নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম জানান, তার স্বামী আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় দুই মাস আগে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাতভর নির্মম নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির পাশে একটি দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে রবিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
রেখা বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী মাসুমা বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ ও পূর্ব বিরোধের জেরে একই এলাকার মুজাম্মেলের ছেলে আনোয়ার, সিরাজ, রায়হান, রশিদের ছেলে রহিম, বায়জিদ ও নিরব পরিকল্পিতভাবে সেলিমকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, সেলিম চুরি করতে গিয়ে গণধাওয়ার মুখে পড়ে গণপিটুনিতে আহত হয়ে মারা গেছে।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাবেদ ইমরান বলেন, সেলিমকে হাসপাতালে আনার সময় তার দুই পায়ের রগ কাটা ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহব্বত খান বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের দায়িত্ব একজন এসআইকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।