এম,এম,রহমান, উজিরপুর বরিশাল প্রতিবেদক:
বরিশাল ২ আসনের সাবেক সংসদ গোলাম ফারুক আভির ট্রাভেল পারমিট জটিলতায় দেশে ফেরা অনিশ্চিত – তিনি বলেন আমার সাথে অবিচার করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কারো জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে ট্রাভেল পারমিট দেয়ার কথা বললেও কেউ ১৭/১৮ দিনেও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কানাডায় অবস্থানরত সাবেক সংসদ সদস্য ও এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি।
২ ডিসেম্বর অভি বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে দ্রুততম সময়ের (২৪ থেকে ৭২ ঘন্টা) মধ্যে নিজ দেশের নাগরিককে দেশে ফেরার জন্য এই পারমিট ইস্যু করার নিয়ম। কিন্তু নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে আবেদনের পর ১৭/১৮ দিন পেরিয়ে গেছে। তারপরেও বর্তমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সম্মতি না পাওয়ায় কানাডায় বাংলাদেশ দূতাবাস তারনামে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করতে পারেনি। ট্রাভেল পারমিট পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, প্রথমে গত ৬ নভেম্বর কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসে ট্রাভেল পারমিটের জন্য টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি । পরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। গত ১৪ নভেম্বর দূতাবাসে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে ট্রাভেল পারমিটের জন্য আবেদন পাঠান। সাথে পাঠিয়েছেন অন্যান্য ডকুমেন্ট।
অভি বলেন, দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবরে ট্র্যাভেল পারমিট চেয়ে একটি আবেদন পাঠাতে বললে, সেটাও পাঠিয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দেশে ফিরতে চান সেই বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন সাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন অভি।
দেশে ফিরতে উদগ্রীব অভি বলেন, তার নামে ইস্যুকৃত বাংলাদেশী পাসপোর্টটির মেয়াদ ২০০৬ সালে উত্তীর্ণ হয়ে যায়। ওই সময় বেশ কয়েকবার নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে লিখিত আবেদন করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস তার পাসপোর্টটির নবায়ন করেনি। এ বিষয়ে তার আইনজীবী ২০১০ সালে হাই কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।
২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল হাই কোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে দেশে ফেরার জন্য ট্র্যাভেল পারমিট ইস্যু করতে নির্দেশ দেয়। ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও দূতাবাস তার (অভি) নামে ট্র্যাভেল পারমিট ইস্যু করেনি।
অভি বলেন, দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পারমিট পাওয়া আমার সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার। আশা করবো আমার এই অধিকারের বিপরীতে গিয়ে নিশ্চয়ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারো রাজনীতির অংশ হবে না। আর বাংলাদেশে কোনো কিছুই অপ্রকাশিত থাকে না।
প্রায় দুই যুগ ধরে দেশের বাইরে থাকা অভি নব্বই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।
দলীয় কোন্দলে ১৯৯০ সালে ছাত্রদল থেকে বহিস্কার হয়। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর) বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অভি। ২০০২ সালে দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর থেকে কানাডায় বসবাস করছেন। দেশে না থাকলেও উজিরপুর উপজেলায় নানা উন্নয়নমুলক কাজ তিনি অব্যাহত রেখেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে তো দেশে ফিরে আসি। এরপর উজিরপুর যাবো। তখন না হয় এ বিষয় কথা হবে।
তার রাজনৈতিক সহকর্মী উজিরপুর বাজার সমিতির সভাপতি সামসু সিকদার বলেন, আমার সাথে প্রায় সময় তার কথা হয়। যখনই কথা হয়, তখনই দেশে আসার কথা ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি দেশে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন।
সামসু সিকদার বলেন, দেশের ফেরার কথা বললেও রাজনীতি নিয়ে কোন কথা হয় না। তিনি এখন আর জাতীয় পার্টিতে (মঞ্জু) নেই। নির্বাচন করবেন কিনা সেই বিষয়েও কিছু বলেননি। দেশে ফেরার পর সিদ্বান্ত জানা যাবে।
উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামে তার বাড়ি ও বিভিন্ন কাজকর্ম দেখাশোনা করা এনায়েত শরীফ বলেন, দেশে না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড সব সময় করেন। রাস্তা নির্মান, স্কুল ও কলেজ ভবন নির্মানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজে যদি কোন সমস্যা হয়, তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়।
এনামুল শরীফ বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে তার ঘনিষ্টজন রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে সরকারের প্রকল্প বরাদ্দ উপজেলার জন্য নিয়ে আসেন। কবে আসবেন, কিংবা নির্বাচন করবেন কিনা সেই বিষয়ে কিছু বলেননি।
তবে দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় গুঞ্জন রয়েছে, দেশে ফিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন গোলাম ফারুক অভি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা প্রচলিত রয়েছে নিজ উপজেলা উজিরপুরে।
উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, বরিশাল-২ আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে যাবেন ।