নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে হঠাৎ লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি পরিশোধ করেও অনেক এলাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলার পর্যায়েই সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইনের গ্যাসের ঘাটতিও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব অভিযোগ করেছে—বিইআরসির নীরবতায় বাজারে বড় ধরনের কারসাজি চলছে।
রাজধানীর শনির আখড়া, ডেমরা, মতিঝিল ও মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শুক্রবার ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে—যেখানে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১,২৫৩ টাকা। তারপরও অনেক স্থানে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। সরবরাহ সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় পণ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় কয়েকদিন ধরে লাইনের গ্যাস না থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ নিয়মিত রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে দাম তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তার মতে, নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় হলেও কার্যকর মনিটরিং না থাকায় বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং ভোক্তাদের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে এলপিজি পরিবেশক সমিতির তথ্যমতে, অধিকাংশ কোম্পানি সাময়িকভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির ওপর চাপ বেড়েছে। সরবরাহ কমার সঙ্গে কোম্পানি পর্যায়ে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
ব্যবসায়িক পর্যায়ের সূত্র বলছে, শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে চাহিদা ও দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ সংকটে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। ডিসেম্বরে আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম এলপিজি আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাজারে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়টি নজরে আসায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) লোয়াবকে চিঠি দিয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রকৃত আমদানি খরচ বাড়লে মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে, তবে তার আগে বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
আগামী ৪ জানুয়ারি বিইআরসি নতুন মূল্য ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাজারস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।