মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারীতে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মনোনয়ন দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন।
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা নীলফামারীর আয়তন এক হাজার ৮২১ বর্গকিলোমিটার। এ জেলায় জাতীয় সংসদের মোট চারটি আসন রয়েছে।
নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা)
ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির পক্ষে শরিক দল বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
এছাড়া বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), সিরাজুল ইসলাম (বিএনএফ), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), মো. রফিকুল ইসলাম (বাসদ-মার্কসবাদী), মো. মখদুম আজম মাশরাফী (জেপি) ও জেবেল রহমান গনি (ন্যাপ)।
নীলফামারী-২ (সদর)
সদর আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধতা পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)। পাশাপাশি জামায়াত মনোনীত অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাসিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু এবং বিএনএফের সিরাজুল ইসলাম বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লা ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়ন দাখিলকৃত কাগজে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)
জলঢাকা আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও যাচাই-বাছাই শেষে দুইজন বৈধতা পেয়েছেন। তাঁরা হলেন— বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আলী এবং জামায়াত মনোনীত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. রোহান চৌধুরীর মনোনয়ন কাগজপত্রে অসঙ্গতির কারণে বাতিল করা হয়।
নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ–সৈয়দপুর)
কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপি মনোনীত মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াত মনোনীত আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন। এছাড়া জাতীয় পার্টির মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. সিদ্দিকুল আলম, বাসদ-মার্কসবাদী মনোনীত মো. মাইদুল ইসলাম এবং এলডিপি মনোনীত নুর মোহাম্মদও বৈধতা পেয়েছেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন মোট ৪৪ জন। এর মধ্যে মনোনয়ন দাখিল করেন ৩৩ জন। যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে— দাখিলকৃত তথ্যে অসঙ্গতি ও প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের যথার্থতা না পাওয়া।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। এ কারণে প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করছেন।