নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশনার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিচিত মুখ হিসেবে হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এতে সংশ্লিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ডিবি জানায়, হাদিকে গুলি করা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফয়সাল ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীরকে পালাতে সহায়তা করেন যুবলীগ নেতা ও পল্লবীর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও ৫ জন পলাতক রয়েছেন—তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর শেখ, মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন অন্তর্ভুক্ত। ডিবি জানায়, ফয়সালের প্রচারিত ভিডিও বার্তাটি সত্য হলেও তিনি দুবাই নয়, ভারতে অবস্থান করছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে চার্জ গঠনের পর পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভবিষ্যতে নতুন তথ্য বা কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।