নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, বাপ্পী ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওসমান বিন হাদি নতুন ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। তার সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে বাপ্পী হত্যার নির্দেশ দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবি জানায়, মামলার প্রধান আসামি ও গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তার সহযোগী আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। তবে এই তিনজন—বাপ্পী, ফয়সাল ও আলমগীর—এখনও গ্রেপ্তার হয়নি; তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, ফয়সালের দেওয়া তিনটি ভিডিও বার্তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নেই এবং ভিডিওগুলো আসল বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও ফয়সাল নিজেকে দুবাইয়ে অবস্থানরত দাবি করলেও তদন্তে তার অবস্থান ভারতে পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওসমান বিন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।