মোঃ নজরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক। একই সঙ্গে একজন দক্ষ উইকেটরক্ষক ও ডানহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের মূল ভরসা হয়ে আছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে চেনায়।
প্রাথমিক জীবন ও ক্রিকেটে পথচলা
শেরপুর জেলায় জন্ম নেওয়া জ্যোতির শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। পরিবার ও আশপাশের পরিবেশের অনুপ্রেরণায় খুব অল্প বয়সেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হন। পুরুষশাসিত সমাজ ও সীমিত সুযোগের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তোলেন। স্থানীয় পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্রুতই নির্বাচকদের নজর কাড়েন।
আন্তর্জাতিক অভিষেক ও প্রতিষ্ঠা
২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে নিগার সুলতানা জ্যোতির। পরবর্তীতে ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শুরু থেকেই তার ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা ও উইকেটের পেছনে ক্ষিপ্রতা চোখে পড়ে, যা তাকে দলে অপরিহার্য করে তোলে।
অধিনায়কত্ব ও নেতৃত্ব
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতির নেতৃত্বগুণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে তিনি নিয়মিত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করছেন। মাঠে ও মাঠের বাইরে দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার যোগাযোগ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সংকট মোকাবিলার দক্ষতা দলকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ নারী দল আরও সংগঠিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন ও রেকর্ড
নিগার সুলতানা জ্যোতি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ইতিহাসে একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০০ রান পূর্ণ করেন। এছাড়া থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে দেশের প্রথম নারী সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ইতিহাস গড়েন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অপরাজিত ১৫৩ রানের ইনিংসও একটি অনন্য কীর্তি।
স্মরণীয় সাফল্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০১৮ এশিয়া কাপ জয়ী বাংলাদেশ নারী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন জ্যোতি। ২০১৯ সালের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দলেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। একই বছর প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগে (WBBL) খেলার সুযোগ পান, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।
মূল্যায়ন
নিগার সুলতানা জ্যোতি কেবল একজন সফল ক্রিকেটারই নন, তিনি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার প্রতীক। তার নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং, দক্ষ উইকেটরক্ষণ এবং বিচক্ষণ নেতৃত্ব বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তার হাত ধরেই দেশের নারী ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।