নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩৬ দিন বাকি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্তত চারটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—কিছু আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহিংসতা এবং বড় দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাত—এসব ঝুঁকি নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ৪০টি আসনে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে সাত জেলাকে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৫ জেলাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আড়াই হাজারকে অতিঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে; এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত লাখের বেশি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ড্রোন, কুকুর স্কোয়াড ও বিশেষ টহলের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, যেখানেই নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তের অপচেষ্টা হবে, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিরোধ, বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, গুজব প্রতিরোধ—এসব ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দল ও পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে উদ্বেগও ব্যক্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতি, গুজব নিয়ন্ত্রণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা—এই চারটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আসন্ন নির্বাচন সফল করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার।