মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
হাড় কাঁপানো শীত, কুয়াশায় ঢাকা জনপদ—ঠিক এমন সময়ে প্রতিবছরের মতো এবারও মানবতার উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের গায়ে শীতবস্ত্রের চাদর জড়িয়ে দিলেন সমাজসেবক ও সংস্কৃতি কর্মী সাইমুম হক।
নীলফামারী জেলার সন্তান, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম (বিইউপিএফ)-এর উপদেষ্টা সাইমুম হকের উদ্যোগে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে সদর উপজেলার শিংগিমারী, পুলিশ লাইন, পলাশবাড়ী ও রামগঞ্জ এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে সাইমুম হক বলেন, “তীব্র শীতের রাতে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটান। তাঁদের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। মানবতা কখনো মৌসুম দেখে না—মানবতার দায়িত্ব সব সময়ের।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সমাজের সামর্থ্যবানরা যদি একটু এগিয়ে আসেন, তাহলে কোনো মানুষকে শীতে কষ্ট পেতে হবে না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজী তমছের আলী, প্রশান্ত কুমার কর্মকার, মোনোয়ার হোসেন (মশাই), খন্দকার আলহাজ্ব মোঃ সানোয়ার হোসেন (আলম), রফিকুল ইসলাম (রেনু মিয়া) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গাজী তমছের আলী বলেন,
“সাইমুম হক শুধু কথা বলেন না, তিনি কাজ করে দেখান। প্রতি বছর নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ান—এটাই প্রকৃত সমাজসেবা।”
প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন,
“এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। শীতার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
শীতবস্ত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত এক বৃদ্ধা বলেন, “এই শীতে কম্বল না পেলে কীভাবে রাত কাটাতাম জানি না। আল্লাহ যেন ওনাদের ভালো রাখেন।”
মানবিক এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তীব্র শীতে যখন অনেকেই নিজ নিজ উষ্ণতার খোঁজে ব্যস্ত, তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।