মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তরপত্র সরবরাহ ও পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জেলার নতুন বাজার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ৪ নম্বর কক্ষে আরশাদ নামের এক পরীক্ষার্থীকে নুর আলম সিদ্দিক নামের এক বহিরাগত শিক্ষক অবৈধভাবে উত্তরপত্র সরবরাহ করেন। এ সময় তার কাছে একাধিক উত্তরপত্রের চিরকুট ছিল বলেও দাবি করেন পরীক্ষার্থীরা।
বিষয়টি কয়েকজন পরীক্ষার্থীর নজরে এলে তারা অভিযোগ জানাতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে যেতে উদ্যত হন। এ সময় কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিক হামলায় পরীক্ষাকেন্দ্রজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক পরীক্ষার্থী আহত হন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন— কেন্দ্র সচিবের অনুমতি ছাড়া বহিরাগতরা কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করল এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না।
উত্তরপত্র সরবরাহের অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক নুর আলম সিদ্দিক দাবি করেন, কেন্দ্র সচিব হুমায়ুন কবিরের নির্দেশেই তিনি ওই পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্র দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব হুমায়ুন কবির।
তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।