১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় স্বামীর বাড়িতে স্ত্রী মর্যাদার দাবিতে গৃহবধূ আদুরীর অনশন

খালিদ হোসেন হৃদয়, ভাঙ্গুড়া,পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল খানমরিচ ইউপি’র হেলেঞ্চা গ্রামের নূর ইসলাম এর মেয়ে গৃহবধু আদুরী খাতুন পার্শ্ববতী বৃদ্ধমরিচ পাইকপাড়া গ্রামের মোঃ আনছার ফকিরের ছেলে হাবিবুর রহমানের মধ্যে প্রায় ৫ বছর পূর্বে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রেমের সম্পর্কে কারণে গত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে(কাজী অফিসে) উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে আদুরী খাতুন ও হাবিবুর রহমানের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের সময়ে স্বামীর পরিবারের প্রস্তাবে ৩ মাস পর আনুষ্ঠানিক ভাবে আদুরী কে শ্বশুড় বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গত বুধবার(৭জানুয়ারী) সকালে আদুরী খাতুন জানতে পারে তার স্বামী হাবিবুর রহমান অধিক যৌতুকের আশায় অন্যত্রে বিবাহের জন্য শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর পরামর্শে তাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৮জানুয়ারী) আদুরী খাতুন নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে স্বামীর বাড়ীতে গিয়ে অনশন শুরু করে। অনশন কালে আদুরী খাতুন গণমাধ্যম কর্মিদের জানান,স্বামী হাবিবুর রহমানকে পাওয়ার জন্য সে সবকিছু দিয়েছি।আমাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ না করলে এ বাড়িতেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে। অনশন কালে আদুরী খাতুনকে বাড়ী থেকে উৎখাতের জন্য স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী,ভাসুর-দেবোর মিলে এলোপাথাড়ি মারপিট করে জখম করে ফেলে রাখে।
নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে মামা মোঃ হাফেজুল ইসলাম, মা আয়জান খাতুন আদুরী(২৪)কে শ্বশুড় বাড়ি থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়দের সাহায্যে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে।
এ বিষয়ে শনিবার রাতেই(১০জানুয়ারী) ভাঙ্গুড়া থানায় স্বামী,শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী, ভাসুর-দেবোর-এর বিরুদ্ধে আদুরীর মা আয়জান খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।শনিবার বিকালে একদল গণমাধ্যম কর্মি নির্যাতিত আদুরীর শ্বশুর বাড়ীতে গেলে বাড়ীর লোকজন ঘরের দরজা তালা দিয়ে বন্ধ করে অন্যত্র থাকায় তাদের এ বিষয়ে মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে প্রতিবেশিরা জানিয়েছে, পুলিশ,সাংবাদিক ও আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আদুরীর শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন ঘরের সকল রুমে তালাবদ্ধ করে অন্যত্রে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে রবিবার (১১জানুয়ারী) সকালে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান মামলা দায়ের কথা স্বীকার করেন এবং আনছার ফকির কে রাতেই গ্রেফতার করা হয় বলে জানান।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top