নিজস্ব প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। সীমান্তের ওপারে রাখাইনে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে এপারের জনজীবনে। রাত নামলেই ভয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়—শিশুদের বাইরে বের হতে দিতেও আতঙ্কিত অভিভাবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাত হলেই ভয় বেড়ে যায়। সীমান্তে স্থায়ী শান্তি না এলে আমাদের এই আতঙ্কের জীবন শেষ হবে না।’ তার মতো আরও অনেক মানুষ একই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনানের মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। শিশুটির চাচা আলী আকবর বলেন, ‘আমার ভাতিজির কোনো অপরাধ ছিল না। সীমান্ত সংঘাতের বলি হয়ে সে এখন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।’
এদিকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে যুবক মোহাম্মদ হানিফের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আহত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবা ফজলুল হক বলেন, ‘সীমান্তে চলাফেরা করাই এখন মৃত্যুর ঝুঁকি। কোথায় মাইন আছে আমরা জানিও না।’
এসব ঘটনার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে হোয়াইক্যংসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারী সাইফুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও অস্থিরতার কারণে স্থানীয়রা ভীষণ আতঙ্কে রয়েছে। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চিংড়ি ঘেরেও যেতে মানুষ ভয় পাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ শিশু ও মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
সীমান্তে চলমান এই অস্থিরতায় টেকনাফের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।