মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে স্থানীয় পর্যায়ে আরেকটি প্রশংসনীয় সংযোজন হলো নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিক্ষার্থী শাহারিয়া রিদয় সুমনের তৈরি “জলঢাকা ই-সেবা” নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নিজ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বাস্তব সমস্যার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই অ্যাপটি ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রংপুর ইমেজ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী শাহারিয়া রিদয় সুমন জলঢাকা পৌরসভার দক্ষিণ কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং বজলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় জনগণের তথ্যসংকট ও সেবাপ্রাপ্তির জটিলতা সহজ করতে প্রযুক্তির সহায়তায় একটি কার্যকর ডিজিটাল সমাধান হিসেবে তিনি এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন।
সুমন জানান, বর্তমানে ‘জলঢাকা ই-সেবা’ অ্যাপে ৪০টিরও বেশি ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সেবা সংযুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের যোগাযোগ নম্বর, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ব্লাড ব্যাংক ও রক্তদাতাদের তালিকা, কুরিয়ার সার্ভিস, বাস কাউন্টার, রেস্টুরেন্ট, স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সরকারি অফিস ও বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য, পত্রিকার ওয়েবসাইট, সাংবাদিকদের তালিকা, স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপসহ নানা জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবা।
এছাড়াও অ্যাপটিতে জলঢাকা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য সহজে পেতে পারেন।
অ্যাপটি তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে শাহারিয়া রিদয় সুমন বলেন, “জলঢাকাবাসী যেন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সেবা পেতে পারেন—এই চিন্তা থেকেই ‘জলঢাকা ই-সেবা’ অ্যাপটি তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে এতে আরও নতুন ও আধুনিক ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বর্তমানে অ্যাপটি এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রয়েছে।
আগ্রহীরা https://sahariya.xyz/জলঢাকা-ই-সেবা লিংকের মাধ্যমে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। নিয়মিত আপডেটের পাশাপাশি নতুন সেবা সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে ইতোমধ্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. রোকনুজ্জামান রোকন চৌধুরী বলেন, “শাহারিয়া রিদয় সুমনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “জাতীয় তথ্য বাতায়নে সরকারি তথ্য থাকলেও স্থানীয় ও বেসরকারি অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য সেখানে নেই। সেই জায়গা থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।”
স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহার ও জনসেবামূলক এই উদ্যোগ জলঢাকার ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।