১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীতে ২০ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি আবসান প্রকল্পেের, দুরবস্থায় দিনপার করছে বাসিন্দারা

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

ভূমিহীন দুস্থ মানুষের জন্য রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্পে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে আবাসনে বসবসরত কয়েক শত বাসিন্দা।

বিগত ২০০৬ সালে আবাসনটি নির্মানের পর ১৮০টি ঘরে পরিবার বসবাস করতো। কিন্তু সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ঘরই বসবাস অনুপযোগী হয়েছে পড়ছে, একারণেই বর্তমান আবাসন প্রকল্পে ৭০টি পরিবারে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ বসবাস করছে। প্রায় সকলেই ভূমিহীন ও নিম্ম আয়ের মানুষ।

আবাসনে বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা পূরনে ১৬টি টিউবওয়েল স্থাপন করলেও বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪টি টিউবওয়েল আছে বাকিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
প্রকল্পের একটিমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটাও দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। আবাসন প্রকল্প থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার দূরে নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যস্ততম সড়কে যত্রতত্র যানবাহন চলাচল করায় শিশুরা যেতে ভয় পায়, ফলে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১৮টি সেডে ৭২টি শৌচাগার থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। চলাচলের একমাত্র পথ সেটিও ভেঙে পড়েছে। একটুখানি বৃষ্টিতে এমন ভোগান্তি পৌছে যায় চরম থেকে চরমে। দ্রুতই সংস্কারের দাবি জানান আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারী বাসিন্দারা।

বাসিন্দা সুফিয়া বেগম (৭০) বলেন, আমি প্রায় ১৮ বছর এখনে বসবাস করি। যখন বৃষ্টি আসে তখন লেপতোশক গুছিয়ে বসে থাকি। চাল দিয়ে পানি পড়ে।
জরিনা বেগম (৬৫) বলেন, এই আবাসনে আমরা শুরুথেকেই বাসবাস করি কিন্তু এখন ঘরের চাল ভেঙে গেছে, জানালা ভেঙে গেছে। আমরা খুব কষ্ট করে পলিথিনের তাবু দিয়ে থাকি। বৃষ্টির দিনে পানি আর শীতে ঠান্ডা বাতাস লাগে।
সোহরাব শেখ (৬৪) বলেন, আবাসান নির্মান এর পরে এখন প্রায় ২০ বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে অধিকাংশ ঘরের বেড়া চাল জানালা সহ সবই ভেঙে গেছে। এখানকার বেশিরভাগ টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। যাতায়াতের রাস্তা ভেঙে গেছে।

আবাসনের সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ (২৮) বলেন, আমাদের জায়গা জমি নাই, তাই আবাসনে থাকি এখানে থাকার পরিবেশ নেই। সরকারের কাছে দাবি দ্রুতই যেন আবাসনে সংস্কার করে আমাদের বসবাসের উপযোগী করে দেন।
আবাসন প্রকল্পের সভাপতি সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, এই আবাসনে একটিমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেটাও ৬ বছরের অধিক সময় বন্ধ রয়েছে। আবাসন থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার দূরে নতুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ব্যস্ততম সড়কে যত্রতত্র যানবাহন চলাচল করায় শিশুরা যেতে ভয় পায়। ফলে শিশুরা শিক্ষা আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন আমরা আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি এই মুহুর্তে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের সংস্কার ও তাদের ভাল রাখার চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আপাদের মাধ্যমে জানলাম। এবং আমরাও আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি, এই মুহুর্তে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের সংস্কার ও তাদের ভাল রাখার চেষ্টা করছি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top