সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ায় সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক সরকারি কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বগুড়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার (৩০)। তিনি বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। অপর যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম (৪২), তিনি বগুড়া শহর যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক এবং ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার ডাবলু মিয়ার ছেলে। তৃতীয় আসামি শাহিন হোসেন (৩৪), তিনি বগুড়া শহরের বৃন্দাবন পশ্চিমপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ইনচার্জ ইকবাল বাহার।
ভুক্তভোগী হলেন সারিয়াকান্দি পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব (৫৬)। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোছাঃ আনজু মান আরা বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব প্রতিদিনের মতো পৌরসভা কার্যালয়ে যান।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাতের ডাকে তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার কুঠিবাড়ী রোডে একটি উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান। কাজ শেষে দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে রওনা হলে সারিয়াকান্দি থানাধীন কুঠিবাড়ী মোড় এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি তার পথরোধ করে।
তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দাবি করে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলসহ তাকে অপহরণ করে বগুড়া শহরের দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রথমে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদারি কাজের তদারকি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা আগেও নিজেদের সাংবাদিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করত। পরিকল্পিতভাবেই ঘটনার দিন তাকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়।
ঘটনার পর বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ডিবি ইনচার্জ ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের জানান অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া সাংবাদিক ও ডিবি পরিচয়ে এই অপরাধ সংঘটিত করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।