রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির তিনটি হিমালিয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। শীতের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় এসব শকুন উড়তে না পেরে বিভিন্ন ভুট্টা ক্ষেতে পড়ে ছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাটগ্রাম উপজেলা বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
তিনি জানান, ১৩ জানুয়ারি বিকেলে পাটগ্রাম পৌরসভার বেংকান্দা এলাকার একটি ভুট্টা খেত থেকে প্রথম একটি অসুস্থ শকুন উদ্ধার করা হয়। পরদিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে একই এলাকা থেকে আরও একটি শকুন দেখতে পান স্থানীয়রা।
একই দিন পাটগ্রাম ইউনিয়নের ঘোনাবাড়ী এলাকার একটি ভুট্টা খেতে পড়ে থাকা অবস্থায় তৃতীয় ও অপেক্ষাকৃত বড় আকারের আরেকটি শকুনের সন্ধান মেলে।
সাথে সাথেই স্থানীয়রা দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি শকুন উদ্ধার করে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।বর্তমানে শকুনগুলো পাটগ্রাম উপজেলা বনবিভাগের কার্যালয়ে নিরাপদে রাখা হয়েছে।
পাটগ্রাম পৌরসভার বেংকান্দা এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ মোন্নাফ বলেন , ভুট্টা খেতে পড়ে থাকা বড় শকুনটি উড়তে পারছিল না, হয়তোবা শীতের কারণে অসুস্থ হযে পরেছে, পরে স্থানীয় লোকজন সেটিকে ধরে বন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।
এব্যপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন,“প্রচণ্ড শীতের কারণে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা এসব গৃধিনী শকুন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। খাবারের সংকট ও ঠাণ্ডাজনিত দুর্বলতার কারণেই তারা বিভিন্ন জায়গায় পড়ে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত শকুনগুলোকে দিনাজপুরের শকুন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানো হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে সেগুলোকে সুস্থ করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃধিনী শকুন পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বিষ প্রয়োগ, খাদ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাটে তিনটি বিরল হিমালিয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধারকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মহল।