নিজস্ব প্রতিনিধি:
শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে আসন বণ্টন নিয়ে টানা আলোচনা চললেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ৮০টি আসন না পেলে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়। জামায়াত সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন এবং আরও ৬–৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও তাতে তারা রাজি হয়নি।
এই অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠক করে ঐক্য ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও তাতেও সমাধান আসেনি। গভীর রাতে তিনি জামায়াত নেতাদের পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন।
জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও বাকি সব দল জোটে থাকছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে পরিণত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর আগের দিন স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। তারা দাবি করে, তাদের ১৪৩টি আসনে শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনও চায় দলটি। তবে এত বেশি আসন ছাড়তে জামায়াত রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ভেঙে যায়।
ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা এখন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকেলে জোটের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও চরমোনাই পীরের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমঝোতা না হওয়ায় সেটি স্থগিত করা হয়। রাতভর চেষ্টা চালিয়েও কোনো ঐক্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে জোট ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।