নিজস্ব প্রতিনিধি:
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিটকে ‘দুর্বল ও অস্পষ্ট’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির অভিযোগ, তদন্তে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর চরম গাফিলতি ও অসহযোগিতা রয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, আদালতে চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নারাজি’ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দাখিল করা চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম নেই এবং একটি সংঘবদ্ধ খুনি চক্রের সম্পৃক্ততা আড়াল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার ঘটনায় তদন্ত সংস্থাগুলোর বক্তব্য একেক সময় একেক রকম। কখনো বলা হচ্ছে আসামিরা ভারতে, কখনো ঢাকায়—আবার ডিবি বলছে মেঘালয়ে, অথচ মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছে তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও এখনো তাকে মামলার কপি সরবরাহ করা হয়নি। বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করেও তিনি তা পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শুধু ক্ষোভ থেকেই হলে দুই মাস ধরে তাকে নজরদারিতে রাখার বিষয়টি ব্যাখ্যাতীত। তার দাবি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে পাঁচজন শ্যুটার ও ২১ জনের একটি সংগঠিত টিম যুক্ত ছিল, কিন্তু চার্জশিটে এসবের কোনো উল্লেখ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যার আগেই ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন ওসমান হাদি। সেখানে তিনি নিয়মিত হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেই জিডির ভিত্তিতে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব।
রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তদন্তের এমন গাফিলতি দেখে প্রশ্ন জাগে—এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের ভেতরের কেউ জড়িত কি না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়ী যেই হোক, সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শেষে তিনি ঘোষণা দেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা শাহবাগসহ সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।