রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)-এর সঙ্গে একটি প্রশাসনিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে হাতিবান্ধা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।
প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজনৈতিকভাবে জড়ানোর এই অপচেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত সময়ে শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি জেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে এডিসির সঙ্গে সরকারি সাক্ষাৎ করতে যান। এটি ছিল নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ, যার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, দল বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল সেই সরকারি সাক্ষাৎকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গাড়ির ছবি ছড়িয়ে দিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। যাচাই ছাড়াই ওই ছবি ও বক্তব্য প্রচার করে ওসিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে দাবী হাতিবান্ধা এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে হাতিবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,আমি তখন হাতিবান্ধা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলাম। প্রশাসনিক প্রয়োজনে এডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাই ছিল আমার গন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগ গমাধ্যমে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমি কোনো রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে যাইনি এবং যে গাড়ির ছবি ছড়ানো হয়েছে, সেটিও আমার ব্যবহৃত গাড়ি নয়।”
তিনি আরও বলেন,“পুলিশ কর্মকর্তারা আইনের আলোকে ও সরকারি নির্দেশনায় কাজ করেন। দায়িত্ব পালনের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।”
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী হাতিবান্ধা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযানে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে একটি চিহ্নিত মহল ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সরকারি দায়িত্বে এডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়, পুরো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার।”
এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
জেলার সচেতন মহল মনে করছেন, যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য বড় ধরণের হুমকিস্বরূপ। তারা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সৃষ্ট ঘটনায় লালমনিরহাট জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এর সঙ্গে মুঠোফোন আলোচনা হলে তিনি দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে বলেন,শীর্তাত ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করতে ঢাকা থেকে একজন সিনিয়র অফিসার আসেন,সেখানে হাতিবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ কে নিয়ে কম্বল বিতরণ করাকে কেন্দ্র করে এত কিছু, অন্যের বাসায় দাওয়াত বা গোপন বৈঠকের বিষয়টি আদৌ সত্য নয়।
তিনি আরও স্পষ্ট ভাবে করে জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রই পুলিশ প্রশাসনের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আগের মতোই কঠোর ও আপসহীন থাকবে বলে জানান তিনি।