৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

দ্বৈত নাগরিকত্বের বাধা কাটিয়ে অধিকাংশ প্রার্থিতা বহাল: ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে ওঠা দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বস্তির রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর তাদের সিংহভাগই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। একই সঙ্গে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে করা বেশিরভাগ আবেদনও নাকচ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিল হওয়া ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে এবং একজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে এ ক্ষেত্রে কমিশন কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই কেউ বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন কি না, সে সংক্রান্ত অ্যাফিডেভিট ও নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশন–এর প্রধান এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, প্রার্থীরা যেমনভাবে শুনানিতে সহযোগিতা করেছেন, তেমনি ভোটের দিনও সহযোগিতা করবেন।

এবার সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাইয়ে ৭২৩টি বাতিল হয়। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে, যার শুনানি চলে টানা ৯ দিন। শুনানি শেষে ৪২২টি আপিল মঞ্জুর, ১৯৫টি নামঞ্জুর এবং ২৮টি আপিলে প্রার্থী অনুপস্থিত থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে প্রায় ৪২০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পান।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ ইসলামসহ বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি বড় অংশের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। তবে কুমিল্লা-১০, কিশোরগঞ্জ-১ ও ময়মনসিংহ-৬ আসনের তিন প্রার্থীর মনোনয়ন আপিলে বাতিল হয়েছে। কুমিল্লা-৩ আসনের এক প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও বাকি রয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এজন্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনকে ভিত্তি করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী—এমন অভিযোগ তুলে একজন নাগরিক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

আগামীকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং এরপর থেকেই শুরু হবে নির্বাচনি প্রচার।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top