খালিদ হোসেন হৃদয়, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সুরাইয়া খাতুনের (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত দুই জনকে আটক করে ফরিদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে পাবনা ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, সুরাইয়া সবুজ নামের এক কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংসার শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সে দুশ্চিন্তায় ছিল। এ সুযোগে সুরাইয়ার আপন চাচাতো বোন ডালিয়া ও তার স্বামী আব্দুল লতিফ পরিকল্পনা করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে লতিফ কাজ করতে না পারায় তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অভাব চলছিল। তারা সুরাইয়ার দাদা-দাদির কাছ থেকে টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তারা সুরাইয়া ও তার প্রেমিকের বিয়ে এবং নিজেদের সংসারের অভাব মেটানোর স্বার্থে একটি সাজানো অপহরণের নাটক করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ জানুয়ারি ডালিয়া বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সুরাইয়াকে নিয়ে কাজিটোল এলাকায় যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল লতিফ। পরে তিনজন মিলে জন্তিহার গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কৌশলে সুরাইয়াকে একাধিক ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে তারা ওই ঘরে গিয়ে দেখে সুরাইয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং সে মারা গেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তারা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে রাতের মধ্যে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে অপহরণের ঘটনা সত্য প্রমাণের জন্য ১৭ জানুয়ারি লতিফের ব্যবহৃত একটি সিমকার্ড থেকে সুরাইয়ার দাদার কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে পাবনা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই জেলা গোয়েন্দা শাখা নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম আকনজির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।