নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের দুই নেতাকে কেন্দ্র করে ভূরিভোজের আয়োজনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সেখানে কর্মরত পুলিশের পাঁচ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলি ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম। তাদের সবাইকে জেলার হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আদালতে হাজিরার সময় দুই আসামির জন্য হাজতখানার ভেতরে খাবারের আয়োজন করা হয়। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ জ ম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ। দুজনই হত্যা ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আ জ ম পাশার মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরীর সঙ্গে ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিনের বিয়ে হয়। সেই বিয়েকে কেন্দ্র করে আদালতে হাজিরার দিন হাজতখানায় ‘বেয়াইখানা’ আয়োজন করা হয়। এ ঘটনার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত হাজতখানায় আসামিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এতে আদালতের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই আদালতের হাজতখানায় এভাবে আসামিদের খাবার পরিবেশন গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।