২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

উজিরপুরে সেনা অভিযানে ইয়াবা–অস্ত্রসহ চাঁদাবাজি মাদক চক্রের মূল হোতা আটক

এম,এম,রহমান, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মধ্যরাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক চিহ্নিত সম্রাট শীর্ষ অপরাধীকে আটক করেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উজিরপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি চৌকস দল উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর এস জিসান জাকি রকি।

অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী মো. মাসুদ হাওলাদারকে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করেন। পরবর্তীতে তার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে ২৯২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

সেনাবাহিনীর এ অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে।

অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত আলামত যথাযথভাবে জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উজিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজ আহমদ, পিএসসি বলেন, মাদক ও অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন, “মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা এবং অপরাধ নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top