মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের পাটোয়ারী পাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
রিকশাচালক দিলীপ রায়ের স্ত্রী মিনু বালা রায় পোড়া ভিটায় বসে বিলাপ করছেন। তার মতো অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরাও নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরির আশায় পোড়া ভিটার ছাই সরানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত নয়টার দিকে গ্রামের দুলাল রায়ের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দিলীপ, দিপু, সুবাস, বিপুল, সুকুমার, চন্দন, প্রতিমা, হিমেল, প্রদীপ ও বেলাই রায়সহ মোট ১১টি পরিবারের ২৫টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র ও মজুত করা ধান-চাল ভস্মীভূত হয়। এ ছাড়া প্রতিমা রায়ের দুটি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।
খবর পেয়ে নীলফামারী দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মুকুল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক আট লাখ টাকা।
ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যার সময় অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাজারে থাকায় আগুন লাগার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি, ফলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের মাঝে প্রাথমিকভাবে শুকনা খাবার ও কম্বল বিতরণ করেন। পাশাপাশি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় প্রত্যেক পরিবারকে দুইটি করে কম্বল, ১০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণসহ রান্নার বিভিন্ন মশলার একটি করে প্যাকেট প্রদান করা হয়।
ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।