সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার ফাত্তাহুন নেছা মিতা (২৪) নামের এক গৃহবধূর গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) ভোরে আদমদীঘি উপজেলা সদরের জিনইর গ্রামে স্বামী মোমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বেলা ১১ টায় পুলিশ নিহত গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে। এদিকে ওই গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ রেখে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেয়।
আদমদীঘি থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত প্রায় ১৫ বছর আগে আদমদীঘি উপজেলার জিনইর গ্রামের ইনতাজ ফকিরের ছেলে আব্দুল মোমেনের সাথে একই উপজেলার উজ্জলতা গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের মেয়ে ফাত্তাহুন নেছা মিতার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে।
স্বামী আব্দুল মোমিন মাঝে মধ্যে নেশা করতো। তাদের সংসারের নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা প্রায় কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে প্রায় তিন মাস পূর্বে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ওই গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়।
এ ঘটনার জের ধরে গত সোমবার দিবাগত রাতে আব্দুল মোমিন তার স্ত্রী ফাত্তাহুন নেছা মিতাকে নির্যাতন করে।এরপর ওইদিন ভোর রাতে মাটির শয়ন ঘরে তালার তীরের সাথে গলায় দড়ির ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধুর লাশ দেখে তার শিশু সন্তান চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা থানা পুলিশে খবর দেনঘটনার পর থেকে গৃহবধুর স্বামীসহ পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেয়।
নিহত গৃহবধূ ফাত্তাহুন নেছা মিতার চাচা আব্দুর রশিদ জানান, তার ভাতিজি ফাত্তাহুন নেছা মিতাকে কৌশলে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় পুলিশ ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান, জানান, মৃত্যু ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় লাশ মের্গ প্রেরন করে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।