নিয়াজ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
গেলো বছরের মার্চে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) শ্রমিক পদে নিয়োগ পান আব্দুল্লাহ আল নোমান। অভিযোগ আছে, পতিত স্বৈরাচার সরকারের সাবেক চসিক মেয়র রেজাউল করিমের সহযোগিতায় লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা ছাড়া এবং নিয়োগবিধি না মেনেই হয় তার চাকরি। এদিকে শ্রমিক পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে তাকে নিযুক্ত করা হয় চসিকের জনসংযোগ বিভাগের পিয়ন হিসেবে। যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল নোমান ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল হাই। নোমানের শ্বশুড়বাড়ি চান্দগাওঁ ৪ নং ওয়ার্ডে। দীর্ঘদিন চসিকের জনসংযোগ বিভাগে পিয়ন হিসেবে কর্মরত থাকার পর গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পরেই রাতারাতি পদোন্নতি পেয়ে ৫ নম্বর কালুরঘাট ওয়ার্ডের ‘ওয়ার্ড সচিব’ হিসেবে দায়িত্ব ভাগিয়ে নেন নোমান। পরে দুই মাস ৫ নম্বর কালুরঘাট ওয়ার্ডে কর্মরত থাকার পর চলতি বছরে শ্বশুরবাড়ির রাজনৈতিক একটি দলের প্রভাব দেখিয়ে নিজ পছন্দে নোমান ৪ নং ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড সচিব) হিসেবে বদলি নেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওয়ার্ড সচিব হওয়ার পরেই তিনি নানান অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নাগরিক সনদ জন্মসনদ এবং নানা ধরনের সনদ ইস্যূর ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, ওয়ার্ড সচিব নোমানের পিতা আব্দুল হাই স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হওয়ার সুবাদে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের সহযোগিতায় কোনো ধরনের নিয়োগবিধি ছাড়াই সিটি কর্পোরেশনে চাকরি বাগিয়ে নেন। নোমান অফিসের চেয়ারে বসেই বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাতকে অনির্বাচিত মেয়র বলে বিরূপ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নোমানের ক্ষমতার দাপট তার বর্তমান কর্মস্থল শ্বশুড়বাড়ি এবং তার পিতা নিজ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, পতিত স্বৈরাচারের দোসর সাবেক মেয়রের হাত ধরে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আব্দুল্লাহ আল নোমান রাতারাতি কোন ক্ষমতার প্রভাবে ওয়ার্ড সচিবে পদোন্নতি পেয়েছে প্রশ্নটি থেকেই যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল নোমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠান প্রতিবেদক। এরপরেও তিনি সাড়া দেননি।