৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল, সংকটে সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়: এটিএম আজহারুল ইসলাম

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক দল, যা যেকোনো জাতীয় সংকটে সর্বপ্রথম সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই অসত্য বক্তব্য দিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা সহজেই অনুমেয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম ও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই দমন-পীড়নের নেপথ্য কারিগররাই আজ দেশছাড়া হতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত দেড় দশকে যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর সময় এসেছে।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলে নীলফামারীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক মানোন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও চাহিদা পূরণই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

জনসভাকে কেন্দ্র করে নীলফামারী সদর উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার চত্বর এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top