৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীতে জামায়াত নেতা এটিএম আজহার: “ভারতে আশ্রয় নেওয়ারা জনগণের বন্ধু নয়”

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “যারা ভারতে আশ্রয় নেয় তারা এ দেশের জনগণের বন্ধু নয়। যারা নিজেদের জনগণের বন্ধু বলে দাবি করত, তারা আজ কোথায়?”

তিনি বলেন, “মৃত্যুর ভয়ে জামায়াতের কোনো নেতা দেশ ছেড়ে পালায়নি। কিন্তু যারা ১৭ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল, তারাও জনগণের বন্ধু নয়।”

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশে সম্পদের কোনো অভাব নেই। “যদি সম্পদের অভাব থাকত, তাহলে গত ১৭ বছরে দেশ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হতো না। ৫৪ বছর ধরে দুর্নীতিবাজরা দেশ শাসন করেছে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ সেবার সুযোগ পায়, তাহলে সর্বপ্রথম দুর্নীতি বন্ধ করবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশের অর্ধেকের বেশি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা দুর্নীতি করি না, করব না এবং কাউকেও দুর্নীতি করতে দেব না।”

দলীয় প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে মানুষ নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল দেখেছে, কিন্তু দাঁড়িপাল্লার লোকদের কখনো ক্ষমতায় দেখেনি। সব দলকে দেখেছেন, এবার একবার দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে দেখুন—আমরা পরিবর্তন আনতে পারি কি না।”

তিনি বলেন, “একটি দল দাবি করে তাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে, জামায়াতের নেই। হ্যাঁ, আমাদের অভিজ্ঞতা নেই—তা হলো দুর্নীতি করার অভিজ্ঞতা।”

২০০১-২০০৬ সময়কালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সে সময় জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এই তিনটি মন্ত্রণালয়ে একটি টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।”

তিনি দাবি করেন, সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী দেশকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে সক্ষম হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে এটিএম আজহার বলেন, “একজন নেতা বলছেন তিনি দেশ থেকে পালাননি। যিনি ১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, তার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যারা অসত্য কথা বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে কোনো ওয়াদাই রক্ষা করবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের কোনো নেতা মৃত্যুর ভয়ে দেশ ছাড়েননি। হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে গেছেন, কিন্তু নিজের সুখের জন্য বিদেশে পালিয়ে যাননি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। চাঁদাবাজ হিসেবে যারা ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের ভোট দিলে দেশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।”

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়িম বলেন, “আবু সাইদসহ জুলাইয়ের শহীদরাই জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক।” তিনি অভিযোগ করেন, অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব এবং ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলার কারণেই জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে সব সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

সভায় উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও ছাত্র-জনতা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিনিধিকে বিজয়ী করবে।”

সদর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন—
নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জেলা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু প্রমুখ।

এর আগে সন্ধ্যায় এটিএম আজহারুল ইসলাম নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top