৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সমর্থকরাই আমাকে মাঠে নামতে বাধ্য করেছে ডা. আবু নাছের

নিয়াজ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের মতো আলোচনায় চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী আংশিক) আসনও। এ আসনে চলছে নানা নাটকীয়তা। জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থক ও এনসিপি প্রার্থী কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। উভয়পক্ষই মাঠে সরব রয়েছেন। তবে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জোবাইরুল হাসান আরিফকেই শাপলা কলি প্রতীক হাতে তুলে দিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু এরপরও মাঠে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের সমর্থনে কেন মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

জানা গেছে, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন এনসিপি জোবায়রুল আরিফ। জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছের সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে গত ৮ দিন কোনো প্রচারণা চালাননি। তাকে ২ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামে জামায়াত আমীরের সমাবেশেও দেখা যায়নি। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। এর আগে ৮ দিন তিনি গণসংযোগ না করলেও স্থানীয়ভাবে তার অনুসারীরা ছিল সরব। জামায়াত ও শিবিরের সাংগঠনিক নেতাদের কাউকে গত ৮ দিন ডা. আবু নাছেরের পক্ষে কোনো গণসংযোগে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলার নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতের সবুজ সংকেত পেয়ে এই আসনে প্রচারণা চালিয়ে বেশ আলোচিত হন। বোয়ালখালীর এই বাসিন্দার দলীয় দায়িত্ব ছোট হলেও নিজে চিকিৎসক নেতা এবং চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত পান তিনি। এছাড়া বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত।
প্রায় তিন দশক ধরে চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে তিনি জড়ির। দেড় বছর ধরে উঠান বৈঠক, মেডিকেল ক্যাম্প ও সামাজিক সহায়তা দিয়ে ভোটের মাঠে আলোচনায় আছেন তিনি। এসব কারণে দলীয় গণ্ডির বাইরে তাঁর রয়েছে বিশাল ব্যক্তিগত অনুসারী। জামায়াতের সাংগঠনিক নেতারা ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত মেনে ডা. নাছেরের পক্ষে গণসংযোগ থেকে বিরত থাকলেও তাঁর অনুসারীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তারা ডা. আবু নাসেরের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অনেকদিন পর এনসিপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয় চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা সাতকানিয়ার বাসিন্দা জোবায়রুল হাসান আরিফকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পেশা হিসেবে হলফনামায় নিজেকে সাংবাদিক। এই অঞ্চলে একেবারেই নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমে বেশ বেকায়দায় আছেন এই প্রার্থী। নিজ দল এনসিপি ও এনসিপির অঙ্গ সংগঠনকেও এখনো এই আসনে মাঠে নামাতে পারেননি তিনি৷ জাতীয় যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশও নেমেছে আরিফের বিরোধীতায়৷ অনেকেই প্রকাশ্যে ফেসবুকে লিখছেন আরিফের বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের এই আসনটিতে নতুন মুখ জোবায়রুল আরিফকে প্রার্থী করার যৌক্তিকতা নেই।

কিন্তু ১১ দলীয় জোটের হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তবে এই আসনে ডা. আবু নাছের ভাইয়ের প্রতি জনগণের সমর্থনের বিরোধী করা শক্তিও আমাদের নেই।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ডা. মো. আবু নাছের বলেন, ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের কারণে আমি গত ৮ দিন কোনো প্রচারণায় বের হয়নি। বাসাতেই ছিলাম। কিন্তু বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে কাজ করা সাধারণ মানুষ আমাকে বাসা থেকে বের করে এনেছে। এখন আমার উপায় কি? আমি এই জনপদ ছেড়েতো আর চলে যেতে পারবো না। তাদের মায়া আমি কি করে ত্যাগ করবো? আমাকে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার জন্য এনসিপি প্রার্থী জোবায়রুল হাসান আরিফকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top