৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আগামীদিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের রাজনীতি: তারেক রহমান

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামীদিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের রাজনীতি। তিনি বলেন, “আমার প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানাও বাংলাদেশ।” জনগণের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং দেশ পুনর্গঠনই বিএনপির মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যারা ভোটাধিকার আদায়ের সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন, তারা স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, এটি জাতি পুনর্গঠনের নির্বাচন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নীলফামারী ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা

তারেক রহমান নীলফামারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, এ জেলার ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) সম্প্রসারণ করা হবে। নীলফামারীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরকে জেলা হিসেবে বিবেচনায় রেখে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবি হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি উত্তরা ইপিজেড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে দাবি, তা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

কৃষকদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে ও স্বল্পমূল্যে কেনা যাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নারী উন্নয়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীকে স্বাবলম্বী করতে প্রত্যেক নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। নারীদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগোবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, যাতে তারা দেশ গঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “একটি দল আপনাদের ভোটের অধিকার ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল। আবারও সেই অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ এসেছে।” শুধু ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, দেশ গড়ার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, ঠিক সেভাবেই ২০২৪ সালেও স্বৈরাচার বিদায়ের যুদ্ধে জনগণ অংশ নিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করবে।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনে আলহাজ্ব সৈয়দ আলী এবং নীলফামারী-৪ আসনে আব্দুল গফুর সরকারসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, “মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গঠনের রাজনীতি।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top