২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আলোচিত সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, হলফনামায় সম্পদ ও মামলা বিবরণী প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নতুন গঠিত সরকারে যোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি। তাকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন শেখ রবিউল আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন সরকার পান ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।

৫৮ বছর বয়সী শেখ রবিউল আলম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ‘প্লিজেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেড’ নামের একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চাকরি (ডিরেক্টর রেমুনারেশন) থেকে আয় ৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

হলফনামায় উল্লেখিত তথ্যমতে, তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে ৪ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে প্রায় ১০ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

শেয়ার বাজারে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ১৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানতের তথ্য দেওয়া হয়েছে। মোটরযান হিসেবে তার নামে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ির উল্লেখ রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের হিসাবে নিজের নামে ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮০ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। তবে আয়কর রিটার্নে তার নিজের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৭ লাখ টাকার বেশি সম্পদ প্রদর্শনের তথ্য রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, শেখ রবিউল আলমের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাতটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। অতীতে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা ২৮টি মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, একটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্বে তাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায়নি।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার বা পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই। একক বা যৌথভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসেবে তিনি কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top