২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পবিপ্রবিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুতে এএইচ ডিসিপ্লিনে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট

মোঃ ফাহিম, পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুকে কেন্দ্র করে এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদের আওতাধীন এএইচ (এনিমেল হাজবেন্ড্রি) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট করেছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্বাইন্ড ডিগ্রির “বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স এন্ড এএইচ” লেভেল-৪ সেমিস্টার-১ ও লেভেল-১ সেমিস্টার-২ এর চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হয়। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এএনএসভিএম অনুষদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক ডিন অফিস ঘেরাও করেন।

এর আগে এনিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষরিত এক লিখিত পত্রে অনুষদের ডিন বরাবর জানানো হয় যে, মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করে অনুষদে চলমান এএইচ ও ডিভিএম ডিগ্রির পরিবর্তে প্রবর্তিত কম্বাইন্ড ডিগ্রি “বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ” এর ক্লাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড এনিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাহবুবুল আলম বলেন, “আমরা আদালতের রায়ের পক্ষে। আদালত যেহেতু কম্বাইন্ড ডিগ্রি অবৈধ ও বেআইনি বলছে, তাই আমরা এই ডিগ্রির রানিং সেশনের সকল ক্লাস-পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করছি। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তমত আমরা এএইচ এর পাঁচটি ডিপার্টমেন্ট এর সকল শিক্ষক এই সিদ্ধান্তে একমত।”

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন,”গত ১৯ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্ট থেকে রায়ের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছিয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবেন।”

এ বিষয়ে লেভেল ৪ সেমিস্টার ১ এর শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, “আজ আমাদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-১ এর চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। আমরা যথারীতি পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্লাসরুমে উপস্থিত হই। কিন্তু পরে জানতে পারি, কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুকে কেন্দ্র করে এএইচ ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা পরীক্ষা নেবেন না। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বড়ই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি ছিল। পরীক্ষাটি গ্রহণের দাবিতে আমরা ডিন বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন,”এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা আমাকে গতকাল একটি চিঠি দিয়েছেন, যাতে উল্লেখ ছিল আদালত কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, তাই তারা ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে আদালতের রায়কে অবমাননা করতে পারবেন না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন,” আদালতের রায়ের বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি খুব দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করা হবে ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন,”হাইকোর্টের রায়ে চলমান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে যাদের একাডেমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে কম্বাইন্ড ডিগ্রিতে অব্যাহত থাকতে পারবে অথবা পূর্বের ডিগ্রি কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।”

তিনি আরও জানান, “হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপিল করবে। আপিলে প্রশাসন জয়ী হলে একটি ডিগ্রি কাঠামো বহাল থাকবে, আর আপিলে পরাজিত হলে বর্তমানে প্রচলিত তিনটি ডিগ্রি কাঠামোই চালু রাখতে হবে।”

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের ৩৪ দিনের তীব্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের ৫৪ তম সভায় এএইচ ও ডিভিএম দুটি ডিগ্রিকে বিলুপ্ত করে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে ২ জন রানিং শিক্ষার্থী,একজন অভিভাবক সহ মোট ৫ জন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন এবং আদালত ১৫ ফেব্রুয়ারি রিটের রায় দেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top