খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিনে ১ হাজার টাকার সমঝোতার প্রলোভন দেখিয়ে এক বাক প্রতিবন্ধী হিন্দু নারীকে নির্জন বাগানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের জননী। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুশান্ত চন্দ্র দাস ও খুকু রানী দম্পতির সন্তান।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে হোন্ডাচালক রাকিবের সঙ্গে ১ হাজার টাকার সমঝোতায় ধোপা বাড়ির পেছনের একটি বাগানে যান ওই নারী। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মিলে তাকে রাতভর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে শশীগঞ্জ দাসপাড়ায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামের তুলসী রানী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে এবং পরে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় ধর্ষণ মামলা (নং–০৩) দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— অটোরিকশা চালক মোঃ রাকিব (৩০), চাঁদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোঃ জুয়েল (৩৫) এবং তদন্তে প্রাপ্ত আল আমিন সম্রাট (২০)। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহীম জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।