মোঃ হাচান আল মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা ।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, রমজানে দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ির একাধিক উপজেলায় ৫০টি করে অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেজে ছিল ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি খেজুর ও ১ কেজি মুড়ি। পাশাপাশি ইবাদতে উৎসাহ দিতে ‘মাহে রমজানের ২৭ আমল’ শীর্ষক একটি বই উপহার দেওয়া হয়।
উপকারভোগীদের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছেন দুস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘদিন অসুস্থ ব্যক্তি, বিধবা নারী, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসা শিক্ষক এবং নিম্ন আয়ের রোজাদার পরিবারগুলো।
দীঘিনালা প্রতিনিধি মোঃ মোবারক হোসেন জানান, রমজান উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছর ৬৪ জেলার ৬২৭টি স্থানে ৩৩ হাজার ৩০০ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ২৩৩ টন খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার প্রায় এক হাজার টাকা সমমূল্যের সহায়তা পেয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড, মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ড ও ছোবাহানপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পশ্চিমপাড়া, বাঁচা মেরুং, বেতছড়ি, বেলছড়ি ও কালাচাঁদ মহাজনপাড়ায় রোজাদার অসহায়, অসুস্থ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এক উপকারভোগী বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি ছাড়াও রাঙামাটি ও বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইফতার বিতরণের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সহায়তা, বন্যাদুর্গতদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ঈদে কোরবানির আয়োজনসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রমজানের শুরুতেই এমন মানবিক উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব সম্ভব।