মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য উৎপাদনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হানের নেতৃত্বে শহরের ‘অভিজাত গ্রুপ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশুদের জন্য প্রস্তুতকৃত ‘আইস ললি’ উৎপাদনে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় মাননিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক লাইসেন্স, মাননিয়ন্ত্রণ সনদ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক নথিপত্র উপস্থাপনে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযানকালে সহকারী কমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি আল-আমিন। তিনি বলেন, শিশুদের খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, একই অভিযানের অংশ হিসেবে নীলফামারী সদরের ‘মুক্তা ফিলিং স্টেশন’-এ পরিমাপে তেল কম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানান, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা, খাদ্যের মানে অনিয়ম কিংবা ওজনে কারচুপির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।