রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা-তে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, একই ব্যক্তি একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট হাতিবান্ধা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নুর ইসলাম বর্তমানে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি অফিসারের দায়িত্বের পাশাপাশি ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন প্রশাসকের দায়িত্ব এবং হাতীবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের দায়িত্বও পালন করছেন।
এদিকে এক ব্যক্তির হাতে উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মহলে।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক সহ-সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, হাতিবান্ধা উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশেষ করে সার ও কীটনাশক সরবরাহ এবং ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে নানা ধরনের অসঙ্গতির কথা শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার নূর-ইসলাম কিছু অসাধু ডিলারের সঙ্গে আঁতাত করে নিম্নমানের সার বীজ, ভেজাল কীটনাশক, ও নন ডিলারদের সার বিক্রয়ে মদদ দিয়ে সারের বাজার অস্থির করে তুলেছে। ফলে সার ডিলারের নিকট কৃষক সার ক্রয় করতে গেলে সার নেই শেষ হয়েছে বলে ফিরিয়ে দেয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খুচরা বিক্রেতাগন ইচ্ছেমত বাহির থেকে ও ডিলারের নিকট থেকে বেশী দামে সার ক্রয় করে প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রয় করছে। কৃষক সার নিতে গেলে একটি,টি,এস,পি” র বস্তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার দুইশত টাকায় কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে নাধারণ কৃষক ব্যপক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন।
আর এই অভিনব কৌশল কাজে লাগিয়ে খুচরা ডিলার বীজ কিটনাশক বিক্রেতার নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোষ হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। আবার খুচরা বিক্রেতাদের সার বেশী দামে বিক্রয় ও বীজ কিটনাশক ডিলারদের তাদের ভেজাল পণ্য বাজার জাত করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন তিনি। ,যার ফলে বেশী দামে সার বিক্রয় করেও মোটা অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতাগন। আর দাঁত ফাঁটা হাতকাটা কৃষকগন বেশী দামে সার বিজ কিটনাশক ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনের পর দিন। কৃষকের নিকট থেকে অভিযোগ তাঁর নিকট গেলেও তিনি ব্যবস্থা গ্রহন না করে গরিমশি করেন।
অন্যদিকে এই লিজেন্ড নূর ইসলাম ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ও তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বর্ডার সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন ভারত থেকে গুরু চোরাকারবারি গন ভারত থেকে এনে ইউনিয়ন পরিষদের নকল কাগজ তৈরী করে হাতিবান্ধার বিভিন্ন গুরুরহাটে বাংলাদেশী গরু বলে প্রকাশ্যে বিক্রয় করছেন তারা। তাছাড়া উন্নয়ণ প্রকল্পের নামে টাকা লোপাট, কাজ বাস্তবায়নে নামে টাক লোপাট। কাজে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে একাধিক।
হাতীবান্ধা উপজেলার কয়েকজন কৃষক,সাধারণ মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কৃষি বিভাগের সেবা পেতে গেলে অনেক সময় নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এসব কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে দিন দিন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন কর্মকর্তার হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকলে প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহিতাও অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রশ্নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য করতে বা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহল বলছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা একান্ত প্রয়োজন ।
এদিকে হাতিবান্ধা উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী ও কৃষকদের দাবি, পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, কৃষি ও ইউনিয়ন পরিষদ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অন্যথায় কৃষিখাত ও ইউনিয়নের উন্নায়ন মূলক কাজের সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা একান্ত জরুরী ।
সচেতন মহলের দাবি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে বলেও মনে করছেন সূশীল সমাজ।।
এবিষয়ে হাতিবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোন আলোচনা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।