মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
মানুষের আস্থা আর স্বচ্ছতার কথা মাথায় নিয়ে কাজ করে চলেছেন বালিয়াকান্দি সরকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন। তার এসব ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করে চলেছে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জনসাধারণ। তিনি যোগদানের পর শুধু ভূমি সেবাই নয়, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব নিয়ে করে চলেছেন জনগণের জন্য। তার প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রশংসা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভূমি সেবার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন। তিনি বিগত ১৪ মাস ধরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নবাসীর থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন।
সততা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, বিসিএস (প্রশাসন) ৩৮তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তা বালিয়াকান্দিতে যোগদানের পর থেকেই ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের হয়রানির চিরাচরিত চিত্র পরিবর্তন করতে শুরু করেন। তাঁর যোগদানের পর প্রতিটি ইউনিয়নের ভূমি অফিসগুলো নিয়মমাফিক কাজ করতে শুরু করেন। প্রতিটি কাজ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এহসানুল হক শিপন পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার কৃতিসন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে লালমোহনে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন।
সেবাগ্রহীতাদের মন্তব্য ও সাফল্য, দায়িত্ব পালনের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের মতে, সহকারী কমিশনারের আন্তরিকতার কারণে এখন ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনসহ কার্যপ্রনালী সহজ হয়ে গেছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে প্রভাবশালী মহলের হাত থেকে সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সাথে কথা বলে দ্রুত নামজারি এবং অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করা, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করা, সবই সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তিনি সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেশ কয়েকজন মাদক সেবিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠিয়েছেন। যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে তার এই ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের জন্য তিনি অফিসের কাজের গতি বাড়াতে এবং হয়রানি রোধে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এহসানুল হক শিপন বিশ্বাস করেন সরকারি পদ শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানুষের সেবা ও বিশ্বাসের জায়গা। বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা প্রমাণ করেছেন যে, সদিচ্ছা থাকলে সরকারি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।