রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে লালমনিরহাটকে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক জেলায় রূপান্তর করা হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
শুক্রবার(১৩ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেই পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই সরকার এখন কাজ করছে। দেশের মানুষের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিদান দিতে সরকার উন্নয়ন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার কৃষি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড প্রদান, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য মাদক, ক্যাসিনো কার্যক্রম, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব অপরাধ সমাজকে পিছিয়ে দেয় এবং দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এগুলো প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার আলোকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি অফিসে সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি নিয়মিত সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন, তাহলে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করতে পারেন না। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকা কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিজেদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভা শেষে ত্রাণমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লালমনিরহাটকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।